ভিসা হাতে পাবার পরের ধাপঃ কেনাকাটা

ভিসা এপ্রুভ হবার পরের ধাপটির নাম কেনাকাটা। কেনাকাটার পূর্বে অবশ্যই জেনে নেওয়া প্রয়োজন, যে দেশে যাচ্ছেন এর আবহাওয়া কেমন। অনেকে না বুঝে বঙ্গ মার্কেট থেকে অপ্রয়োজনীয় নিন্ম মানের শীতকালীন কাপড়চোপড় কিনে নেয়। আসলে ঐ সময়ে শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকার কারণে সঠিক ভাবে কেনাকাটা করতে পারে না।

ফলাফল অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয় এবং যে ধরনের কাপড়চোপড় কেনা হয় সেটা পরবর্তীতে পরিধানের যোগ্য থাকে না। এই আর্টিকেলে  আলোচনা করা হয়েছে কি ধরনের কাপড় আপনি যাবার প্রাক্বালে কিনে নিয়ে যাবেন।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে জার্নির সময় নতুন জিন্স এবং নতুন টি সার্ট ব্যাবহার করবেন না কারণ নতুন কিছু সবসময়  অস্বস্তিকর লাগে। আপনার সাথে থাকা ব্যাগে একটি জ্যাকেট রাখবেন কারণ যখন ইউরোপে এরাইভ করবেন তখন শীত অনুভব হবে। ল্যাপটপ এবং টাকা পয়সা আপনার সাথেই রাখবেন কখনো লাগেজে রাখবেন না। যাবার সময় অবশ্যই আপনার চুল ছোট করে যাবেন কারণ ইউরোপে চুল কাঁটা অনেক এক্সপেন্সিভ। ইউরোপীয় এয়ারপোর্টে যখন পোঁছাবেন আপনার লাগেজ সব সময় হাতে রাখবেন এটা মনে করবেন না যে এখানে চুরি হয় না।

১। ক্যাশ: আপনার ইচ্ছা, তবে নূন্যতম ৬ মাসের ব্যাকআপ নিয়ে যাবেন। অনেকে মনে করে ক্যাশ ক্যারি করা মনে হয় অন্যায় কিছু। সাথে বেশি টাকা ক্যাশ থাকলে হয়তো বাংলাদেশ অথবা ইউরোপীয় ইমেগ্রেশনে সমস্যা হতে পারে। এটা মোটেও ঠিক না। আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী আপনি ১০,০০০ ইউরো বহন করলেও সমস্যা নেই।

 ২। জ্যাকেট: সাজেস্ট করব বাংলাদেশ থেকে কোন প্রকার জ্যাকেট,সুয়েটার না কিনার জন্য। কারণ আপনি যে দামে জ্যাকেট কিনে নিয়ে যাবেন এর চেয়ে কম দামে ভাল মানের ফ্যাশানেবল জ্যাকেট ইউরোপে পাবেন। বাংলাদেশে একটি মোটা জ্যাকেটের দাম কমপক্ষে ২০০০-৫০০০ টাকা হবে যেটা ইউরোপীয় শীত টলারেট করতে পারবে না এবং সে দেশের জন্য টেন্ডি হবে না , যা ইউরোপীয় ফ্যাশনের সাথে কখনোই সামজস্য হবে না।  এর চেয়ে রিসার্ভ, সি এন্ড এ, মারক্স এন্ড স্পেঞ্চার, টেস্কো, জারা ব্র্যান্ড সমূহ থেকে বাংলাদেশি টাকায় ২০০০ -৫০০০ টাকার ভিতরে ভাল মানের টেন্ডি জ্যাকেট কিনতে পারবেন। তাই বাংলাদেশ থেকে যাবার সময় আপনার পুরাতন জ্যাকেট বা সুয়েটার পরিধান করে রওনা দিবেন।

 ২। জিন্সঃ ৩-৪ টি জিন্স নিতে পারেন। পরে প্রয়োজন হলে ইউরোপ থেকে কিনে নিতে পারবেন। ইউরোপে প্রতি জিন্স ১৫০০-৩০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।   

 ৪। ৮-১০টি  টি শার্ট। ( হাফ হাতা এবং ফুল হাতা)

 ৫। ২-৩ টি শার্ট। এর মধ্যে অবশ্যই ২ সেট ফর্মাল সার্ট-পেন্ট এবং টাই নিয়ে যাবেন ফর্মাল কাপর আপনার ক্লাসের প্রেসেন্টেসান অথবা বিভিন্ন পার্টির জন্য লাগবে।

 ৬। ২ টি বেল্ট।

 ৭। জুম্মার নামাজের জন্য ১ টি পাঞ্জাবি। (যদিও শীতের কারণে পরা হবে না)

 ৮। ৩-৪ টি আন্ডার ওয়ার।

 ৯। ইনারঃ ইনার কেনার জন্য আমি বারণ করছি কারণ নিচে ইনার পড়ার মত এত শীত কয়েকদিন মাত্র উপলব্ধি হতে পারে।

 ১০। ২ টি মাফলার।

 ১১। গ্লাভসঃ ইউরোপ থেকে কেনটাই ভাল হবে যদি আপনি প্রয়োজন মনে করেন।

 ১২। ২ টি লুঙ্গি অথবা হালফ পেন্ট।

 ১৩। ১ টি টাওয়াল ।

 ১৪। ১টি মগ, ১ টি প্লেট, ১টি বোতল, ২ টি স্পুন, ২ টি ফরক স্পুন, ১ টি ছুরি।

 ১৫। ফ্রাই পেন: ইউরোপে থেকে কিনে নিন বাংলাদেশ থেকে কিনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

 ১৬। ১টি ল্যাপটপ এবং ১ টি পেন ড্রাইভ, ৩ টি উইন্ডোজ সিডি এবং বিভিন্ন প্রকার সফটওয়ারের সিডি।

 ১৭। সেভিং কিট।

 ১৮। ১টি টুট ব্রাশ ১টি পেস্ট, ১টি ডেটল, ১ টি সোপ।

 ১৯। ২ টি বডি স্প্রে।

 ২০। যত প্রকার মসল্লা, গরম মসল্লা রয়েছে এবং হলুদ, মরিচ  সহ ইত্যাদি কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য নিয়ে যান। কারণ সেখানে গরম মসল্লার অনেক দাম।

 ২১। ইউরোপিয়ান সাইজের ২০ কপি ছবি। (দুতাবসে যে সাইজের ছবি জমা দিয়েছেন)

 ২২। সকল অরিজিনাল একাডেমিক ডকুমেন্ট

২৩। জুতা: বাংলাদেশের বিভিন্ন মার্কেট থেকে আমরা বুট জুতা কিনে ফেলি যেগুলি নিন্ম মানের এবং ভাল মানের হলেও তা ইউরোপীয় আবহাওয়ার সাথে এডজাস্ট করে না। সুতরাং যারা বুট জুতা ব কেডস পছন্দ করেন তাঁরা ইউরোপ থেকে আপনাদের পছন্দ অনুযায়ী বুট জুতা বা কেডস কিনে নিতে পারেন। দাম বাংলাদেশের মতই পরবে।

 ২৪। চাল, ডাল, তেল এই ধরনের দৈনিক ভোজ্য খাবার এখানে পাওয়া যায় সুতরাং এইগুলি দিয়ে আপনার ব্যাগ ভারি করবেন না। আপনি সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ওজনের ব্যাগ ক্যারি করতে পারবেন।

২৫। একটি ওয়াটার প্রুফ কাঁধ ব্যাগ।

২৬। ভাল মানের একটি লাগেজ কিনুন। কারণ ইউরোপে বিভিন্ন সময় আপনার আবাসন পরিবর্তন করতে হতে পারে তখন এই লাগেজ দিয়েই আপনি মালামাল শিফট করতে পারবেন।

২৭।বাংলাদেশে যে ধরনের ইলেকট্রিক সকেট ব্যাবহার করা হয় ইউরোপে এমন ধরনের সকেট ব্যাবহার হয় না।  যদি পান ২-৩ পিস ইউরোপিয়ান সকেট কিনে নিন। না পেলে সমস্যা নেই এখানে এভেইলেবল আছে দাম বাংলাদেশি টাকায় ৩০০ টাকার মত পরবে।

২৮। কিছু বেসিক মেডিসিন যেমন প্যারাসিটামল, মুভ, গ্যাস্ট্রিক টেবলেট, স্যালাইন প্রভৃতি অল্প পরিমাণে কিনে নিন।

২৯।  নোকিয়া মেপ নামে একটি অফলাইন ম্যাপ রয়েছে সেটা আপনার মুঠোফোনে  ডাউনলোড করে নিন।

৩০। জেল পেন সহ স্টাডি রিলেটেড মেটেরিয়াল একটু বেশি করে কিনে নিয়ে যান তবে খাতা এত বেশি পরিমাণের কেনার প্রয়োজন নেই।

৩১। কিছু সুই এবং বিভিন্ন রঙের সুতা কিনে নিন।

৩২। ১টি সানগ্লাস

৩৩। ৪ জোরা মোজা

৩৪। ১ জোরা স্লিপার

৩৫। ১টি ছাতা

৩৬। বেড শিট,পিলু এইসব কেনার দরকার নেই ডোরমেটরি থেকে দেওয়া হয়।

৩৭। ব্ল্যাংক ডিভিডি ৪ টি

৩৮। শ্যাম্পু, কন্ডিশনার সহ অন্যান্য প্রসাধনীর দাম এখানে অনেক কম , ইউরোপ থেকে কেনাই উত্তম হবে।

৩৯। ১টি নেইল কাটার

৪০। লিপ ব্লাম বা মেরিল বেস্লিন

৪১। স্টেপ্লার এবং পিন

৪২। ছোট স্কেল

সর্বশেষ, ইউরোপে হাই কমেট ব্যাবহার করা হয় এবং সেখানে মল পরিস্কারের জন্য কমেট হ্যান্ড সাওয়ার নেই। সুধুমাত্র টিস্যুর ব্যবস্থা রয়েছে। যেটা বাংলাদেশীদের জন্য যথেস্ট বিড়ম্বনা বিষয়। তাই বলছি যাবার সময় মল ত্যাগের পর পানি খরচের জন্য একটি  গার্ডেন ওয়াটার ক্যান কিনে নিয়ে যাবেন। বদনা কিনার দরকার নেই কারন ঐইটা দেখতে একটু অদ্ভুত লাগে।

বিঃ দ্রঃ বাংলাদেশ ইমিগ্রশনে প্রায়শই ইমেগ্রেশন অফিসার কে দেখা যায় শিক্ষার্থী কে বিভিন্ন প্রকার প্রশ্ন দিয়ে নাজেহাল করতে। ধরুন আপনি যাচ্ছেন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ শহরে অথবা এস্তোনিয়ার তাল্লিন শহরে এই সময় বাংলাদেশ ইমেগ্রেশন অফিসার বলে উঠতে পারে চেক রিপাবলিক বা এস্তোনিয়া এটা আবার কোন দেশ। এটা কোথায়। একবার এক ছেলে ইমিগ্রেশন অফিসারকে  বলল সে প্রাগে যাবে, অফিসার তখন তাঁর টিকেট চেক করে বলল  আপনি বললেন ইউরোপে যাচ্ছেন কিন্তু আপনার টিকেটে লেখা PRAGUE পেরাগুয়ে। PRAGUE পেরাগুয়ে ত ইউরোপে নয় এটা  দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ।  এরপর ঐ ছাত্র দীর্ঘ ১৫ মিনিট সময় নিয়ে  PRAGUE এবং PARAGUAY এর মধ্যে পার্থক্য কি বুঝিয়ে বলল। যাইহোক আপনারা এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে মেজাজ ঠিক রেখে ভালভাবে কথা বলবেন। এখানে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তবে সঙ্গে আপনার অফার লেটার এবং আপনার অল একাডেমিক সার্টিফিকেট রাখবেন।

মন্তব্যসমূহ

Facebook