ভিসা রিফিউসালের কারণ

এই আর্টিকেল টি তৈরি করা হয়েছে ভিসা রিফিউসালের বিভিন্ন বিষয় কে কেন্দ্র করে। আশাকরি শিক্ষার্থীদের কাজে আসবে। কি কি কারনে একজন শিক্ষার্থী চেক প্রজাতন্ত্র/স্লোভাকিয়া/স্লোভেনিয়া/এস্তোনিয়ার দূতাবাস দ্বারা প্রত্যাখ্যাত বা রিফউস হতে পারে। চেক প্রজাতন্ত্র/স্লোভাকিয়া/স্লোভেনিয়া/এস্তোনিয়ার এডমিসান এবং ভিসা প্রসেস নিয়ে কাজ করছি আজ প্রায় অনেক বছর ধরে।

প্রথমত, আমার এই ২ বছরে বিভিন্ন ছাত্রের এক্সপেরিয়ান্স, অনুমতি বিহীন কলেজ গুলি নিয়ে বেক্তিগত প্রত্যক্ষ গবেষণা তার সাথে কিছু বিশেষ ইউরোপীয় পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ ফেকাল্টির উপর প্রাইমারি সেকেন্ডারি তথ্যের পর্যালোচনা এবং চেক প্রজাতন্ত্র/স্লোভাকিয়া/স্লোভেনিয়া/এস্তোনিয়ার দূতাবাসের তথ্য মতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কোন চেক প্রজাতন্ত্র/স্লোভাকিয়া/স্লোভেনিয়া/এস্তোনিয়ার  বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের এডমিসান পাওয়া ছাত্রদের ভিসা রিফিউজ হয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে প্রথমত আলোকপাত করছি।

আমি অনেক বার বলেছি ছাত্রকে অবশ্যই চেক প্রজাতন্ত্র/স্লোভাকিয়া/স্লোভেনিয়া/এস্তোনিয়ার এজুকেসান মিনিস্ট্রি এবং ইয়থ স্পোর্টস অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এডমিসান নিতে হবে। নয়ত ভিসা রিফিউজ হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনারা অনেকে হয়ত PRAGUE BUSINESS COLLEGE (PBC) এর কথা শুনেছেন। কেননা বাংলাদেশে যে সকল কনসালটেন্সি ফার্ম চেক ভিসা নিয়ে কাজ করে তারা বেশিরভাগ এই কলেজে ছাত্রদের ভর্তি করায়। এটি একটি অনুমতি বিহীন চেক কলেজ এবং এই কলেজে যে কেউ ভর্তি কনফার্ম করতে পারবে। এই কলেজের যথেষ্ট দুর্নাম রয়েছে। এর সর্বমোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪-১০ জন। শিক্ষকের সংখ্যা ১-২ জন। কলেজের টোটাল ক্লাস রুমের সংখ্যা ২ টি। এদের মুলুত বিজেন্স টার্গেট হল প্রথমে আপনার কাছ থেকে অগ্রিম টিউসান ফি নিবে। ওরা জানে আপনার ভিসা রিফিউস হবার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ। তারপর আপনার ভিসা রিফিউস হবার ০৮ মাস পর্যন্ত এই টাকা তাদের একাউন্টে রাখবে এর থেকে মাসিক ইন্টরেস্ট পাবে। তারমানে বিনা ইনভেস্টমেন্টে লাভ। ৮ মাস পর আপনার টাকা ফেরত পাবেন। ভাগক্রমে এই কলেজে যারাই ভিসা নিয়ে আসতে পেরেছে তারা সকলেই ১ মাস ক্লাস করার পর অন্য কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং তাকে আবারও মোটা অঙ্কের টিউসান ফি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে দিতে হয়েছে।

সবছেয়ে বড় কথা হল এই কলেজের আন্ডারে গেলে আপনি পার্ট টাইম জব এর অনুমতি পাবেন না। এর কারণ হল চেক প্রজাতন্ত্রে যাদের স্টাডি প্রোগ্রাম এজুকেসান মিনিস্ট্রি এবং ইয়থ স্পোর্টস অনুমোদিত নয় তারা লিগেলি কোথাও পার্ট টাইম কাজ করার অনুমতি পায় না। আপনি যেখানেই কাজের জন্য যাবেন তারা আপনাকে মানা করে দিবে। কেননা চেক প্রজাতন্ত্রে প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে প্রতি সপ্তাহে ওয়ার্ক অফিস থেকে কন্ট্রোল করা হয়। এক্ষেত্রে যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় যার কিনা কাজের অনুমতি নেই তখন কন্ট্রোলার আপনাকে ডিপোর্ট করতে পারে অথবা চেক আদালতে আপনার নামে কারন দর্শানোর নোটিস দিতে পারে এর সাথে ঐ মালিককে বড় অঙ্কের জরিমানা ত আছেই।

কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়  বা কলেজের চেক এজুকেসান মিনিস্ট্রি এবং ইয়থ স্পোর্টস এর অনুমতি নেই তা এক নজরে দেখে নিন

এই ধরনের আরও কিছু কলেজের নাম দিচ্ছি ভুলেও এডমিসান নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গলা টিপে হত্যা করবেন না।

  • Prague Business College (PBC) in Czech Republic
  • Czech College
  • Prague College
  • International Prague University
  • Our College

দ্বিতীয় নাম্বারে আছে CZECH COLLEGE এটি আরেকটি অনুমতি বিহীন প্রতিষ্ঠান এর চরিত্র প্রাগ বিজনেন কলেজ এর মত। তবে এটি আরও এক ধাপ এগিয়ে। চেক কলেজ ভিসা পারপাসে আপনার কাছ থেকে শুরুতেই ৪০০০ ইউরো নিয়ে নিবে। কারন ওরা জানে আপনি এই কলেজে আসলে ১ মাস পর অন্য কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবেন। তাই তারা একে বারে এক বছরের ফি আগে থেকেই নিয়ে নেয়।

তৃতীয় নাম্বারে আছে Prague College এই কলেজের কিছু সংখ্যক ভিসা হয় কারন এই কলেজ টি কিছুটা হলেও ইন্টারন্যাশনাল এজুকেসান মেইনটেইন করে। তবে টিউসান ফি অনেক উচ্চ। এটিও একটি অনুমতি বিহীন কলেজ।

৪র্থ এবং পঞ্চম International Prague University এবং Our College এই দুইটি সবচেয়ে নিন্ম মানের বলা চলে। আমি কখনও শুনি নাই এই দুই কলেজের ভিসা কেউ পেয়েছে। আমাদের পরামর্শ হল যখন আপনি কোন কনসালটেন্সি ফার্মের মাধ্যমে কাজ শুরু করবেন অবশ্যই জিজ্ঞেশ করে নিবেন ওরা আপনাকে যেই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাবে তা চেক এজুকেসান মিনিস্ট্রি এবং ইয়থ স্পোর্টস এর অনুমোদিত কিনা। যদিও অনেকে কনসালটেন্সি এই ব্যাপারটিতে তেমন অবগত নয়। অথবা নিজে নিজে প্রসেসিং করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কে জিজ্ঞেশ করে নিবেন তাদের চেক এজুকেসান মিনিস্ট্রি এবং ইয়থ স্পোর্টস এর অনুমতি আছে কিনা।

আরও একটি বিষয় হল আপনি এই ধরনের অনুমতি বিহীন কলেজ এর আন্ডারে ভিসা আবেদন করলে চেক দূতাবাসে আপনাকে প্রায় ১৫০০০ টাকা ভিসা আবেদন ফি দিতে হবে। সে জায়গায় চেক এজুকেসান মিনিস্ট্রি এবং ইয়থ স্পোর্টস এর অনুমিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে ভিসার জন্য আবেদন করলে আপনাকে কোন প্রকার ভিসা ফি দিতে হবে না।

চেক দূতাবাস  ইন নিউ দিল্লির ভাষ্যমতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কোন পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় র ভিসা রিফিউস হয়ে থাকে?? অথবা বাংলাদেশের চেক কন্সলাটেন্সি গুলি কোন পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়  নিয়ে কাজ করে???? বর্তমানে আপনারা লক্ষ করবেন অনেক কনসালটেন্সি বলছে তারা আপনাকে পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়  তে এডমিসান করিয়ে দিবে। কিন্তু চেক প্রজাতন্ত্রে এমন একটি পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়  আছে যাদের স্টুডেন্টেদের ভিসা এ যাবত কালে সবচেয়ে বেশি রিফিউস হয়েছে। এমনকি যখন দিল্লি যাবেন দেখবেন আপনার আসে পাশের প্রায় সকল ক্যান্ডিডেট এই একি বিশ্ববিদ্যালয় র থেকে এডমিসান পেয়েছে। সুতরাং আলোচনার আগেই বুজতে পারছেন এই পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়  তে খুব সহজেই যে কেউ এডমিসান নিতে পারে।

তাই বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, নেপালে এবং পাকিস্তানের কনসালটেন্সি ফার্ম গুলি এই একটি মাত্র পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়  নিয়ে কাজ করে। স্বাভাবিক কারণে দূতাবাস  যখন দেখে প্রায় সকল ছাত্র এই একি বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে অফার লেটার নিয়ে এসেছে তখন তারাও ব্যাপারটি নিয়ে যথেষ্ট সন্ধেহে থাকে। এতক্ষণ যেই পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয় র কথা বলছিলাম তার নাম Czech University of Life Sciences Prague www.czu.cz/en নিঃসন্দেহে এটি একটি রেপুটেড বিশ্ববিদ্যালয়  এবং যথেষ্ট পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল চেক দূতাবাসে  যে সকল ছাত্র রা স্টাডি ভিসার জন্য আবেদন করে তাদের ৫০ ভাগ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং চেক দূতাবাস ইন নিউ দিল্লির যত স্টাডি ভিসা রিফিউস হয় তাদের ৫০ ভাগ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের।

আপনারা হয়ত এখন আমার কথায় কিছুটা কনফিউসড হয়ে গেসেন কেননা আমি একবার বললাম যে, চেক এজুকেসান মিনিস্ট্রি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিসান পাওয়া ছাত্রের ভিসা পাবার সম্ভাবনা বেশি আবার এখন বলছি এই Czech University of Life Sciences Prague ( পাব্লিক এবং চেক এজুকেসান অনুমোদিত) এর ভিসা সবচেয়ে বেশি রিফিউস হয়েছে।

এবার কারন খুজি কেন Czech University of Life Sciences Prague এই বিশ্ববিদ্যালয় র ভিসা রিফিউস হয়ঃ

নিঃসন্দেহে Czech University of Life Sciences Prague একটি ভাল বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এর একটি ফ্যাকাল্টি বাদ দিয়ে। জি হাঁ Faculty of Economics and Management http://www.pef.czu.cz/en/ এর কথা বলছি। এই ফ্যাকাল্টিটি মটেও ভাল মানের নয় এদের মেইন টার্গেট অর্থ উপার্জন কুয়ালিটি এজুকেসান নয়। কারন আপনি এই ফ্যাকাল্টি থেকে কোনরূপ যোগ্যতা ছাড়া এডমিসান লেটার পাবেন যদিও ইদানিং তারা স্কাইপ ইন্টার্ভিউ এর মাধ্যমে এডমিসান নিচ্ছে। তবে তা শুধু চেক ফরেইন মিনিস্ট্রি কে দেখানোর জন্য। তাদের এই রুপ স্ক্যাইপ টেস্টে প্রায় সবাই পাস করে থাকে। সবচেয়ে বড় আপত্তি হল ওরা আপনাকে কখনও মেইন প্রোগ্রামে এডমিসান করাবে না। আপনাকে PPL preparatory প্রোগ্রামে এডমিসান দিবে। এটাই চেক দূতাবাস র সবচেয়ে বড় আপত্তি । চেক দূতাবাস  মনে করে আপনি যদি কোআলিফাইড ক্যান্ডিডেট হয়ে থাকেন, কেন আপনি এই ধরনের PPL preparatory প্রোগ্রামে আসলেন। আপনার আসা উচিত ছিল মেইন প্রোগ্রাম ইন ব্যাচেলর বা মাস্টার্স প্রোগ্রামে। তাই এদের ভিসা আপ্পলিকেসান রিফিউস হবার সম্বাবনা বেশি থাকে পাশাপাশি এই একি ফ্যাকাল্টির হিউজ পরিমানের স্টুডেন্ট আরও একটি ভিসা না পাবার বড় বাধা।

তাহলে কি Czech University of Life Sciences Prague এ এডমিসান নিবেন না!!! অবশ্যই নিবেন তবে সেটা অন্য ফ্যাকাল্টি তে এই Economics and Management ফ্যাকাল্টি তে নয়। অনেকে এখন বলবেন আপনি বলতে চাচ্ছেন যে Czech University of Life Sciences Prague ইন Economics and Management ফ্যাকাল্টি তে যারা আবেদন করেছে সবার ভিসা রিফিউস হবে অবশ্যই সবার না; তবে এই ফ্যাকাল্টির ভিসা পেতে হলে আপনাকে সত্যিই আউট স্ট্যান্ডিং ভিসা ইন্টার্ভিউ দিতে হবে। তাহলে পাবেন। আর সবাই কিন্তু আউট স্ট্যান্ডিং ভিসা ইন্টার্ভিউ দিতে পারে না। কেন Czech University of Life Sciences Prague (CULS) এর Faculty of Economics and Management এ ভর্তি হবেন?? আপনার কাছে কি এর কোন যক্তিক তথ্য আছে?

এই ফ্যাকাল্টির পার ইয়ার টিউসান ফি হল ৪০০০-২০০০ ইউরো। প্রথমে ৪০০০-২০০০ ইউরো ভিসা আবেদনের পূর্বে নিবে। বাকিটা যাবার পর দিতে হবে। এত উচ্ছ টিউসান ফি দিয়ে এই ধরনের প্রিপেরাটরি কোর্সে যাবার কোন যুক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। । এই Faculty of Economics and Management কতটা অর্থলোভী এবং কমার্শিয়াল তার একটি বাস্তব চিত্রের কথা বর্ণনা করছি।

২০১৫ সাল পর্যন্ত চেক প্রজাতন্ত্রে র প্রথম লং টার্ম ভিসা( যেটা দিল্লি থেকে ইস্যু হয়) ৬ মাসের দেওয়া হত। স্টুডেন্টদের চেক প্রজাতন্ত্রে  পৌছিয়ের ৩-৪ মাস পর ভিসা প্রলং এর জন্য আবেদন করতে হয়। একটি ছেলে Czech University of Life Sciences Prague (CULS) এর Faculty of Economics and Management কে প্রথমে ৪০০০ ইউরো টিউসান ফি বাংলাদেশ থেকে দিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রে  এসেছে অর্থাৎ তার ১ বছরের টিউসান ফি পেইড রয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রে  পৌঁছানোর ৪ মাস পর আপনাকে ভিসা এক্সটেন্সান এর জন্য আবেদন করতে হয় সবাই ১ বছরের ভিসা পবার জন্য আবেদন করে এবং চেক ইন্টারিওর ও একি কথা বলে যে স্টুডেন্টরা যেন ১ বছরের জন্য আবেদন করে কারন ৬ মাসের জন্য করলে খরচ ডাবল পরবে।

যখন এই ছেলেটি ভিসা প্রলং বা এক্সটেন্সান এর জন্য ১ বছরে পেপারস বিশ্ববিদ্যালয় র কাছে চাইল, এমতাবস্থায় ফেকাল্টি উক্ত ছাত্রকে বলল, যেহেতু তুমি ১ বছরের টিউসান ফি দিয়েছ যেহেতু আমরা তোমাকে ৬মাসের ভিসা বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে পেপারস দিব ১ বছরের পেপারস দিব না, যদি তুমি ১ বছরের পেপারস নিতে চাও তাহলে তোমাকে আরও ২০০০ ইউরো টিউসান ফি এখন দিতে হবে। কেবল তখনি আমরা ১ বছরের পেপারস ইস্যু করব। । ।

দেখুন একটি ছাত্র কিছুদিন আগে বাড়ি থেকে ৪,০০,০০০ লক্ষ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়  কে দিল। সে চেক প্রজাতন্ত্রে  এসে ৪ মাস পর যদি আবার বাসা থেকে ২,০০,০০০ লক্ষ টাকা চায় তখন অই পরিবারের অবস্থা টা কি হবে একবার চিন্তা করে দেখেন দেখি। আর চেক ভিসা প্রলং বা এক্সটেন্সান করতে আপনার কম করে হলেও ২৫০০০ টাকা খরচ হয়। তাই আপনি ৬ মাসের জন্য প্রলং বা এক্সটেন্সান করলে এই একি টাকা খরচ হবে। তারপর আবার ৬ মাসের জন্য আবেদনের সময় ২৫,০০০ টাকা এক্সট্রা খরচ হবে। যার জন্য এই ফেকাল্টি দায়ী। । । অপর দিকে অন্যান্য পাব্লিক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়  গুলি স্টুডেন্টদের সাথে এই ধরনের প্রেসার ক্রিয়েট বা ট্রেপে ফেলে টাকা আদায় করার ইতিহাস আমার জানা নেই। বরং এমন ইতিহাসও রয়েছে যে, চেক প্রজাতন্ত্রে  এসে সে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়  তে এডমিসান পেয়ে আগের বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে যে টাকা টিউসান দিয়েছিল তার ফুল অথবা হালফ রিফান্ড পেয়েছে।

তাছাড়া সকল পাব্লিক বা অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে আপনার সমস্যার কথা বলে অনেক কিছুরই সাহায্য পাওয়া যায়। Faculty of Economics and Management CULS Prague নিয়ে এত বর্ণনা করার কারন হলঃ এই বিশ্ববিদ্যালয় র ভিসা হয় না। যেহেতু এডমিসান নেওয়া অতি সহজ সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা এই পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়  তে এডমিসান পেয়ে অনেক বড় কিছু মনে করে কিন্তু ভোঁর হলেই সে বুঝতে পারে কি ভুল ছিল তার। তাই বলব পাব্লিক দেখে এত লাফানোর কিছু নাই, সব গাছ ফল দেয় না। তারপরেও কিছু স্টুডেন্ট চেক এজুকেসান মিনিস্ট্রি এবং ইয়থ স্পোর্টস এর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও ভিসা রিফিউজ হচ্ছে এর রেসিও টা যদিও অনেক কম। সে ক্ষেত্রে রিফিউসাল এর কারন কি হতে পারে।

আমাদের মাধ্যমে যারা এই পর্যন্ত ভর্তি এবং ভিসা প্রসেস করেছে তাঁরা সকলে ভিসা পায়নি এই অংশে আমার কিছু ছাত্রের ভিসা রিফিউসালের কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করছি।

আমার এক ছাত্র আমি তার ইন্টার্ভিউ নেওয়ার কথা বললেই সে বলত ভাই আপনি ভিসা ইন্টার্ভিউয়ের জন্য যা দিয়েছেন আমি এগুলি সব পারি। আমি ভাবতাম সে হয়ত সব শেষ করেছে। মেইন ভিসা ইন্টার্ভিউয়ের ঠিক ৫ দিন আগে আমি অনেকটা জোর করে তার ইন্টার্ভিউ নেই। সত্যি নেওয়ার পর হতাশ হলাম কিভাবে ইংরেজি সেন্টেন্স মেক করা লাগে সে তাও জানে না। যাইহোক ভিসা ইন্টার্ভিউ তে সে তার কোর্স সম্পর্কে কিছুই বলতে পারে নাই। ভিসা অফিসার তাকে বলল তুমি কিভাবে বাংলাদেশ থেকে নিউ দিল্লি তে এসেছ তা আমদেরকে একটু বল। ভদ্রলোক তাও ভাল ভাবে বলতে পারে নাই। পড়ে সে আমাকে বলছে ভাই কিভাবে বাংলাদেশ থেকে দিল্লি আসব এই প্রশ্ন টা ত আপনার দেওয়া ভিসা ইন্টার্ভিউ প্রিপারেসান মেটেরিয়ালে ছিল না। এবার বুজেন কি অবস্থা।

আরেকজন ছাত্রের অভিজ্ঞতার কথা বলছি, সে স্টাম্ফোরড বিশ্ববিদ্যালয়  তে পড়ত। তার ইংলিশ প্রফেসিয়ান্সি আমার দেখা সবচেয়ে অরস্ট ছিল। ভিসা অফিসার তাকে বলছে ডিড ইউ সাবমিট উর একসেপ্টেন্স লেটার আই কুড নোট ফাইন্ড ইট। উত্তরে সে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজি তে বলল আই ডোন্ট হেভ একসেপ্টেন্স লেটার আই হেভ অনলি অফার লেটার। তারপর ভিসা অফিসার তার একসেপ্টেন্স লেটারটি অন্য কোন এক কাগজের ভিতর পেল। ঐ ছাত্র একটি প্রশ্নের উত্তর ইংরেজিতে  দিতে পারে নাই এমনকি ভিসা অফিসারের কোন কথা সে বুজতে পারে নাই। সর্বশেষ ভিসা অফিসার তাকে জিজ্ঞেশ করছিল হোয়াট লাঙ্গুয়েজ ইউ কেন স্পিক? উত্তরে সে বলল আই কেন স্পিক বাংলা অ্যান্ড ই নো হিন্দি। এর পর ওর কথা শুনে ভিসা অফিসার হিন্দি জানেন এমন একজন ইন্ডিয়ান কে আনলেন । মজার ব্যাপার হল সে হিন্দি টাও ভালবভাবে বলতে পারে নাই।

আরেকজন ছাত্র মালয়েশিয়া থেকে আবেদন করেছিল তার মালয়েশিয়ার পড়া শেষ হয় নি বিধায় চেক দূতাবাস  ইন মালয়েশিয়া ভিসা দেয় নাই।

আরেক জন ছাত্রের ভিসা রিফিউস হয়েছে মুলুত ইন্টারভিউ এবং নোস্ট্রিফিকেসান এর জন্য। চেক প্রজাতন্ত্রে কিছু পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়  সার্টিফিকেট নোস্ট্রিফিকেসান করার কথা ভিসা আবেদনের পূর্বেই বলে থাকে, সার্টিফিকেট নোস্ট্রিফাই করার একটি নিদ্রিস্ট তারিখ থাকে, এর মধ্যে আপনার সার্টিফিকেট উক্ত তারিখের ভিতর নোস্ট্রিফিকেসানের প্রিলিমিনারি স্টেপ কমপ্লিট করতে হবে। যাদের মাধ্যমে নোস্ট্রিফাই করবেন অরা যদি মনে করে এই সার্টিফিকেট এর নোস্ট্রিফিকেসান সম্পন্ন করতে আর বেশি সময়ের প্রয়োজন যেটা বিশ্ববিদ্যালয় র সার্টিফিকেট নোস্ট্রিফাই এর ডেড লাইন অতিক্রম করবে, সে ক্ষেত্রে আপনার ভিসা রিফিউস হতে পারে।

যদি কোন বিশ্ববিদ্যালয়  বলে যে তোমার নোস্ট্রিফিকেসান এর প্রাইমারি স্টেপ ক্লাস শুরু হবার ৭-১০ দিন আগে সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ক্লাস সুরু হবার ৪-৫ মাস আগে ভিসার আবেদন করতে হবে তাহলে আর ভিসা রিফিউস হবার সম্ভাবনা কম থাকবে।

নোটঃ অনেকে হয়ত শেষ ছাত্রের ভিসা রিফিউসালের রিসন টা ঠিক বুজে উঠতে পারছেন না। এটাই স্বাভাবিক কারন চেক নোস্ট্রিফিকেসান কি কিভাবে করতে হয় আমরা অনেকেই তা প্রপারলি জানি না। আর এটা নিয়ে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়  ভিসা পাবার আগে স্টুডেন্টকে চাপ দেয় না। তাই হয়ত অনেকেই এই নোস্ট্রিফিকেসান নিয়ে নিজে নিজে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে না। তারপরেও নোস্ট্রিফিকেসান নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে করতে পারেন উত্তর দেবার চেষ্টা করব। মনে রাখবেন চেক দূতাবাস  প্রধান দুটি বিষয়ের উপর ভিসা এপ্রুভ করে। প্রথমত আপনার বিশ্ববিদ্যালয় র অনুমোদন আছে কিনা এবং দ্বিতীয়ত আপনার ভিসা ইন্টার্ভিউ পারফর্মেন্স। এই দুইটি ঠিক রাখবেন ভিসা হবার সম্ভাবনা ভাল থাকবে।

সর্বশেষ এই কথাই বলব যে, উপরে দুই জন কে ছোট করার জন্য আমি উদাহরণ টানি নাই । আমি শুধু বাস্তব কিছু চিত্র তুলে ধরলাম। যাতে করে নতুন রা এর থেকে কিছু শিক্ষা নিতে পারে এবং যারা ইংরেজিতে তেমন ভাল না তারা যেন প্রপার এংরেজি দক্ষতা বাড়িয়ে তারপর ভিসা প্রসেসে নামে। এখন কারও যদি ইংলিশ প্রফিসিন্সি মোটামুটি ভাল না হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি যত ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে  যান না কেন ভিসা হবে না। এর মানে এই নয় যে ভিসা যারা পাচ্ছে তারা খুভ ভাল ইংলিশ বলতে পারে। তবে চলার মত ইংলিশ তারা পারে। আসাকরি আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে কিছুটা হলেও ভিসা রিফিউস হবার ধারণা পেয়েছেন। ভবিষ্যৎ এ কেউ চেক প্রজাতন্ত্র/স্লোভাকিয়া/স্লোভেনিয়া/এস্তোনিয়ার প্রসেস করলে এই লেখা গুলি তার কাজে দিবে।

মনে রাখবেন ভিসা এপ্রুভাল দেয় স্ব স্ব দেশের ইন্টারিওর অফিস । এখানে কোন তৃতীয় বেক্তি বা পক্ষের কোন ক্ষমতাই নেই ভিসা এপ্রুভ করার। হয়ত কিছু লোক বলতে পারে যে, আমাদের সাথে দূতাবাস র লিংক রয়েছে। সুতরাং আমরা লভিং করে আপনার ভিসা করিয়ে দিতে পারব। এই ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ বানোট এবং মিথ্যাচার।

মন্তব্যসমূহ

Facebook