সিভি সমাচার

ইউরোপে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীকে একটি সিভি তৈরি করতে হয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদনের শর্তাবলিতে ইউরোপাস সিভি ফর্মেটের কথা উল্লেখ করে দেয়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইউরোপাস সিভির পুরাতন বা বর্তমান ফর্মেটে সিভি তৈরি করতে হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এরা সিভির কোন ফর্মেটে উল্লেখ করে না, সেক্ষেত্রে ফর্মেটের কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই তবে অবশ্যই সিভি স্ট্রাকচারড হতে হবে। সিভি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি সিভি শিক্ষার্থীর কোয়ালিটি, রুচি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলি শিক্ষার্থীর ভর্তি আবেদন পর্যালোচনা করার সময় সর্বপ্রথম সিভির দিকে নজর দেয়। সুতরাং ফার্স্ট ইম্প্রেশন ইতিবাচাক করতে সিভি একটি যাদুকারি কৌশল হতে পারে।

অনেকে ভাবতে পারেন “ভাই সিভি নিয়ে এত প্যাঁচালের কি আছে সাধারণভাবে একটি বানিয়ে দিলেই ত হয়। এই রকম কত দেখেছি সিভিতে হাজারো ভুল নিয়ে ভর্তি অফার পেয়েছে”  জি আপনার কথা আংশিকভাবে সঠিক। তবে ইউরোপীয় সকল বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু এক নয়। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তেমন কোন কিছুই যাচাই বাঁচাই না করে ভর্তি অফার দিয়ে দেয় অপরদিকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যারা শিক্ষার্থীর প্রতিটি ডকুমেন্ট যাচাই বাঁচাই করে সিদ্ধান্ত জানায় এবং আপনি যদি সে ধরণের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে চান তাহলে অবশ্যই পুরো আর্টিকেল টি পড়ুন আশাকরি আপনার সময়টি বিফলে যাবে না।

সিভি এবং রিসিউম এর মধ্যে পার্থক্যঃ

অনেকেই সিভি এবং রিসিউম কে একি জিনিস মনে করে। প্রকৃত অর্থে সিভি এবং রিসিউমে কিছু আকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। সংক্ষেপে বললে, রিসিউমে একজন বেক্তির বায়োগ্রাফি, কন্টাক্ট ডিটেইস, একাডেমিক, প্রাসঙ্গিক দক্ষতা, প্রতিভা, অবিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত সারাংশ।  মুলুত এখানে বেক্তির স্কিল কে বেশি ফোকাস করতে হয়। রিসিউম ১-২ পৃষ্ঠার হয়ে থাকে( কোনক্রমেই দুই পৃষ্ঠার অধিক অতিক্রম করে না)

অপরদিকে সিভি হল বেক্তির একাডেমিক, স্বীকৃতি, স্কোলারশিপ, এবং পেশাদারী ব্যাকগ্রাউন্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। মুলুত এখানে বেক্তির শিক্ষাগত অর্জন কে বেশি ফোকাস করতে হয়। এটি ২-  ১০ এর অধিক পৃষ্ঠার হয়।

সিভি অবশ্যই কোনোলোজিকাল অয়াইস লিখেত হবে অর্থাৎ একাডেমিক বা চাকুরীর সময় গুলি শুরু থেকে বর্তমান বা বর্তমান থেকে শুরু এই ভাবে ক্রম অনুসারে লিখতে হয়।

অপরদিকে রিসিউমে এই বিষয়ে কোন ধরাবাঁধা নেই আপনার ইচ্ছানুযায়ী ক্রম সেট করতে পারেন।

লেখার শুরুতেই বলেছিলাম সিভি এবং রিসিউমের মাঝে মৌলিক বিষয় বাদ দিয়ে শুধুমাত্র  আকৃতি গত পার্থক্য রয়েছে এর বেশি কিছু নয়।  উচ্চশিক্ষায় ভর্তি আবেদনের জন্য সাধারণত সিভি চাওয়া হয় রিসিউম সচারাচর চায় না। সুতরাং আলোচনা সিভি কেন্দ্রিক করি।

সিভি তৈরির ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি অবশ্যই লক্ষ্য  রাখতে হবেঃ

১।  যে প্রোগ্রামে আবেদন করবেন তাঁর সমন্ধে বিস্তারিত তথ্য ইন্টারনেট থেকে জেনে নিন। জানার চেস্টা করুন এরা শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে। ধরুন আপনি বিবিএ করেছেন এখন আবেদন করছেন পাব্লিক ইকোনোমিক্স এন্ড পলিসি বিষয়ে, সেক্ষেত্রে স্কিল অথবা কোয়ালিফিকেশন অথবা এক্সপেরিয়ান্স পার্টে পাব্লিক ইকোনোমিক্স এন্ড পলিসি নিয়ে তথ্য থাকতে হবে।

২। সিভির শুরুতে আপনার নাম এবং হোম এড্রেস, ইমেইল, ফোন নাম্বার থাকতে হবে।

৩।  স্টাডি অবজেক্টিভঃ

অনেকেই স্টাডি অবজেক্টিভ অংশ সিভিতে উল্লেখ করে না, তবে দেওয়া থাকলে দেখতে ভাল লাগে। এখানে স্টাডি অবজেক্টিভ অংশে কেন আপনি উক্ত বিষয়ে পড়াশুনা করতে চান অথবা যে বিষয়ে আপনি আবেদন করছেন সেটা নিয়ে আপনার কোন স্টেংথস, এক্সপেরিয়ান্স থাকলে ফোকাস করুন। কথাটি দুই লাইনে লিখার চেস্টা করুন( ২ লাইনের বেশি যেন না হয়)

৪।  এজুকেসান এন্ড কোয়ালিফিকেসানঃ

এরপরের সেক্সানে এজুকেসান এন্ড কোয়ালিফিকেসান নামে একটি পার্ট করুন। অবশ্যই ইউনিভার্সিটির নাম, কবে ব্যাচেলর বা মাস্টার ডিগ্রি শুরু এবং শেষ করেছেন, ডিগ্রি নাম, গ্রেড, মেজর সাব্জেক্ট, থিসিস অথবা প্রজেক্ট টাইটেল কি কি ছিল উল্লেখ করুন। (এজুকেসান এন্ড কোয়ালিফিকেসানে সেকেন্ডারি, হায়ার সেকেন্ডারি প্রোগ্রাম নিয়ে কিছু লেখার দকার নেই, এটি সম্পূর্ণ নিস্প্রয়জন)

যদি শিক্ষার্থীর শর্ট কোর্স, ট্রিনিং ডিগ্রি থাকে তাহলে অবশ্যই এই সেক্সানে উল্লেখ করতে হবে। এজুকেসান এন্ড কোয়ালিফিকেসান সেক্সানে সকল কিছু বিপরীত কালানুক্রমিক অনুযায়ী তথ্য প্রদর্শন করুন সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্য প্রথমে আসবে।

৫।  অ্যাচিভমেন্টঃ

এই অংশে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স প্রোগ্রাম চলাকালীন সময়ে যদি আপনি কোন দায়িত্বে থেকে থাকে যেমন ক্লাস রিপ্রেসেন্টেটিভ অথবা খেলায় দলনেতা, ডিভেট প্রোগ্রামে সদস্য অথবা সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ,   অথবা এক্সট্রা কারিকুলারের জন্য কোন প্রকার স্বীকৃতি থাকলে অবশ্যই ইহা এই সেক্সানে উল্লেখ করবেন।

৬। ওয়ার্ক এক্সপেরিয়ান্সঃ

জব টাইটেল, এপ্লয়ারের নাম, ঠিকানা, কর্মসংস্থান সময়কাল,  কাজের দায়িত্বসমুহ, চাকরির কোন এচিভমেন্ট, ইত্যাদি থাকতে হবে।

৭। কি স্কিলস/কম্পেটেন্সিস এন্ড এট্রিবিউটসঃ

খেয়াল করবেন অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অয়েভসাইটে দেওয়া থাকে যে অমুক প্রোগ্রামে আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীর এই এই স্কিলের প্রয়োজন। উল্লেখিত স্কিল্গুলি হেন্ডিং দিয়ে কিছু লিখুন।

৮। ইন্টারেস্টঃ

স্পোর্টস, ক্লাচারাল গ্রুপ্স, আপনার সখ এবং ভলিউন্টিয়ার কাজ গুলি এখানে লিখুন। আপনি যদি কোন সামাজিক ক্লাব বা কোন সংস্থার সাথে যুক্ত থাকে তা এখানে মেন্সান করুন।

 ৯। সর্বশেষ রেফারেন্সঃ

ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের সময় সাধারণত ২টি রিকোমেন্ডাসান লেটার বা রেফারেন্স লেটার চেয়ে থাকে। যাদের থেকে এই লেটার গুলি ইস্যু করাবেন ঠিক তাদের নাম এই রেফারেন্স অংশে দিবেন।

অবশ্যই কমপক্ষে ২ জনের রেফারেন্স এখানে টানবেন। যাদের রেফারেন্স এখানে দিবেন তাদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে যেমনঃ নাম, পজিসান, প্রতিষ্ঠানের নাম, আপনার সাথে সম্পর্ক, তাঁর ইমেইল এড্রেস, ফোন নাম্বার ইত্যাদি ।

এবার একটি আদর্শ সিভি স্যাম্পল আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। অনেকে সিভি তে বিভিন্ন রকমের ডিজাইন, বিভিন্ন রকমের ফন্ট, বিভিন্ন রকমের কালার ব্যাবহার করে থাকে যেটা সম্পূর্ণ দৃষ্টিকটু মনে হয়। সিভি দেখতে যত সিম্পল মনে হবে তত ভাল লাগবে।

 

মন্তব্যসমূহ

Facebook