মাটির নিচে অপরূপ সৌন্দর্যঃ দেশটির নাম স্লোভাকিয়া

স্লোভাকিয়া ২১ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে নিজেকে সেনজেন এরিয়ার সদস্য দেশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং ১ মে ২০০৪ সালে দেশটি ই ইউ অধিভুক্ত হয়। চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙ্গে যাবার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই দেশটি কেননা, মূলত উন্নত শিল্প কারখানা গুলি চেক প্রজাতন্ত্রে ছিল। সে তুলনায় স্লোভাকিয়াতে কিছুই ছিল না। তারপরেও দেশ বিভাগের পর নিজেদের কে তাঁরা আরও প্রত্যয়ী হিসাবে গড়ে তুলে এবং দেশকে পুনঃ-প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারী বেসরকারিভাবে স্লোভাকিয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। যার ফলস্রুতিতে দেশের অর্থনীতিতে বিদেশী বিনিয়োগ কারীরা আকৃষ্ট হয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্লোভাকিয়া হল সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক নিদর্শন। ছোট একটি দেশ স্লোভাকিয়া যেখানে প্রায় ২০০ টি ক্যাসেল রয়েছে। এই সকল ক্যাসেল দেখার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ভীর জমায়। আয়তনের দিক থেকে বিবেচনা করলে স্লোভাকিয়ার ক্যাসেল এর সংখ্যা অন্যোন্য দেশের চাইতে বেশি।

দেশটির অফিসিয়াল নাম হচ্চে স্লোভাক রিপাবলিক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি যা পাহাড়, ক্যাসেল এবং গুহায়   পরিবেষ্টিত। ইউরোপের ভিতরে সবচেয়ে বেশি গুহার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে স্লোভাকিয়ায়। ভ্রমণ পিয়াসু এবং এডভেঞ্চার যারা পছন্দ করে তাদের জন্য এই ধরনের গুহা সত্যি নতুন কিছু দেখার ফ্লেভার এনে দিবে। এখানে প্রায় ৬০০০ এর মত গুহা রয়েছে এর মধ্যে কিছু গুহা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকাভুক্ত। স্লোভাকিয়ার গুহা গুলি এতটাই সৌন্দর্য যে, এর ভূগর্ভস্থ কে পৃথিবীর স্বর্গ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

স্লোভাকিয়া মধ্য ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। স্লোভাকিয়ার উত্তর-পশ্চিমে চেক প্রজাতন্ত্র, উত্তরে পোল্যান্ড, পূর্বে ইউক্রেন, দক্ষিণে হাঙ্গেরি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে অস্ট্রিয়া। এর রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ব্রাতিস্লাভা। দেশটির জনসংখ্যা পঞ্চাশ লাখ। স্লোভাকিয়া তাঁর ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কে অনেক গর্বের সাথে পালন করে যা অন্য ইউরোপীয় দেশের ভিতর তেমন লক্ষ্য করা যায় না। ১০ম শতাব্দী থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত স্লোভাকিয়া হাঙ্গেরির অংশ ছিল। ১৯১৮ সালে এটি চেক অঞ্চল বোহেমিয়া ও মোরাভিয়ার সাথে মিলিত হয়ে ও সাইলেসিয়ার একটি ক্ষুদ্র অংশ সাথে নিয়ে চেকোস্লোভাকিয়া গঠন করে। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কিছুদিন আগে জার্মান স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারের চাপে দেশটি স্বাধীনতা ঘোষণা করে, কিন্তু ১৯৪৫ সালে আবার এটি চেকোস্লোভাকিয়ার সাথে মিলিত হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত চেকোস্লোভাকিয়ার ক্ষমতায় ছিল সোভিয়েত-ধাঁচের সাম্যবাদী সরকার। ১৯৯৩ সালে দেশটি চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ায় বিভক্ত হয়ে যায়। এখানে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের মত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা চলছে। তবে গণতন্ত্রের চর্চা চললেও এখানে একটি বৈষম্যমূলক চিত্র রয়েছে, স্লোভাকিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণের রোমানিয়ার জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা এখানে বহুকাল ধরে বসবাস করছে এবং আইনীভাবে তাঁরা স্লোভাকিয়ার নাগরিক। কিন্তু বছরের পর বছর রোমানিদের অপকর্ম, অধিক জন্ম হার, অশিক্ষা এদেরকে একটি বিশেষ গোষ্ঠী হিসাবে পরিণত করেছে। এর ফলে এরা এই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে স্লোভাক সরকার সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং বর্তমানে এরা অপ্রত্যাশিতভাবে দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার ভুক্তভোগী।

যানবাহন নিয়ে স্লোভাকিয়ায় মজার একটি বিষয় রয়েছে। ইউরোপের ভিতর একমাত্র দেশ যেখানে ছাত্র, সিনিয়র সিটিজেন এবং শিশুরা বিনামূল্যে ট্রেনে চলা ফেরা করতে পারে এবং সুযোগ শুধু স্লোভাকিয়ানরা পায় না, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিটি সদস্য দেশের জনগণ এর আওতায় যেখানে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছাত্র,  সিনিয়র সিটিজেন এবং শিশুদের ট্রেন টিকেটে শুধুমাত্র ডিসকাউন্ট দেয়া হয়। স্লোভাকিয়া বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী মেনুফেকচার করে এর ভিতরে গাড়ী অন্যতম। গত বছর ১ মিলিয়ন গাড়ী তৈরি করেছে দেশটি।

স্লোভাকিয়ায় ২০ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৩ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১২ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত পুলিশ , মিলিটারি সমূহ পেশার লোকজন পড়াশুনার সুযোগ পায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলির অর্থায়ন স্লোভাক সরকার বহন করে।  স্লোভাকিয়ায় উচ্চ শিক্ষা কে ৩য় স্তরের শিক্ষা হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

স্লোভাকিয়ান সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা, কোথায় কোন বিষয় টি রয়েছে এবং ভর্তির শর্তাবলী জানতে স্টাডি প্রোগ্রাম সেক্সানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

Facebook