স্বল্প খরচে বাংলাদেশ-নিউ দিল্লী যেভাবে যাবেন

আপনারা জানেন যে, চেক প্রজাতন্ত্র/স্লোভাকিয়া/স্লোভেনিয়া/এস্তোনিয়া দেশের দূতাবাস আমাদের দেশে নেই। তাই বাধ্য হয়েই ভিসা আবেদনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নিউ দিল্লী যেতে হয়। এই আর্টিকেলে ভারতীয় ভিসা, ভ্রমণ,খরচাপাতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন কম খরচে ভারত ভ্রমণ করতে পারে।

 ভারত ভিসা

 ভারতীয় ভিসার জন্য ইন্ডিয়া ভিসা অনলাইন  পোর্টাল থেকে আবেদন করতে হবে। অবশ্যই ভারতীয় টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।  আবেদনের ১-২ সপ্তাহের মাঝে ভিসার জন্য এপয়েন্টমেন্ট পাবেন।

 

ভারত ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে (বাধ্যতামূলক)

১। অরিজিনাল পাসপোর্ট (পাসপোর্ট যদি একের অধিক থাকে তাহলে একের অধিক যতগুলি পাসপোর্ট রয়েছে সকল অরিজিনাল পাসপোর্ট সহকারে দূতাবাসে জমা দিতে হবে। যদি পূর্ববর্তী কোন পাসপোর্ট আপনার কাছে না থাকে সে ক্ষেত্রে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করুণ এবং তাদের নির্দেশনা মোতাবেক কার্য সম্পন্ন করুন)

২। সম্প্রতি তোলা ১ কপি ছবি (ছবির সাইজ ২”*২” ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা)

৩। ন্যাশনাল আই ডি কার্ডের ফটোকপি যাদের নেই তারা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি দিবেন

৪। চলতি মাসের অরিজিনাল ইলেক্ট্রিসিটি বিল/গ্যাস বিল/টেলিফোন বিল/পানির বিল যেকোনো একটি লাগবে

৫। আপনার কলেজ/ইউনিভার্সিটির আইডি কার্ডের ফটোকপি। যারা চাকুরী করছেন তাঁরা তাদের ভিজিটিং কার্ড এবং জব আইডি কার্ডের ফটোকপি দিবেন

৬। যে কোনো ব্যাংক থেকে ২০০$ এন্ডোরস বা ডলার ক্রয়ের প্রমাণপত্র। (অনেকেই ব্যক্তিগত ব্যাংক স্টেটমেন্ট ২০০$ সমপরিমাণ টাকা দেখায় কিন্তু এই পদ্ধতিতে দেখালে ভারতীয় ভিসা মাজে মাজে রিজেক্ট হয়। আমি বলবো এন্ডোরস সবচেয়ে উত্তম)

৭। সর্বশেষ স্টাডি ডিগ্রির সার্টিফিকেটের ফটোকপি বা চাকরির আইডি কার্ড

৮।  অনলাইন অ্যাপ্লিকেশান ফরম।

৯। ভিসা ফি ৬০০ টাকা নগদ দিতে হবে।

উপরোক্ত ডকুমেন্ট সমূহ ভিসা এপয়েন্টমেন্টের দিন জমা দিন। দূতাবাসের দেওয়া নির্দিষ্ট তারিখে  গিয়ে ওদের ডিসিশন জেনে আসুন।

 

ঢাকা থেকে ভারতে বাই রোডে কিভাবে যাবেন এবং কত খরচ হবে

ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রীনলাইন, সোহাগ এই পরিবহণ গুলি মতিঝিল থেকে যশোর বেনাপোলের উদ্দেশে প্রতিদিন সকালে ছাড়ে (এছাড়া ভিন্ন প্রকার শিডিউল থাকতে পারে আপডেট জানতে বাস কাউন্টারের সাথে যোগাযোগ করুন )। বাস যখন যশোর-বেনাপোল পৌঁছাবে বাস কর্তৃপক্ষ আপনাকে তাদের ভারতীয় বাসে নিয়ে যাবে এবং এই বাস বেনাপোল থেকে সরাসরি কলকাতায় যাবে।

তবে কিছু পরিবহণ রয়েছে যাদের সার্ভিস সরাসরি ঢাকা থেকে কোলকাতা (এইক্ষেত্রে আপনাকে বাস পরিবর্তন করতে হবে না) উল্লেখিত তিনটি পরিবহনের কোয়ালিটি একি রকম। ঢাকা টু কলকাতা যেতে সময় লাগবে প্রায় ১৩ ঘণ্টা।

নোট: সাথে তেমন হেভি ব্যাগ নেয়ার প্রয়োজন নেই। একটি কাঁধ ব্যাগে অবশ্যই ভিসা ইন্টার্ভিউয়ের জন্য সকল ডকুমেন্ট সহ ফর্মাল প্যান্ট,সার্ট,টাই এবং ফর্মাল সু সঙ্গে নিবেন।

প্রথম, অগ্রিম টিকেট কেটে রাখতে হবে (শুধুমাত্র যাবার)। টিকেটের মূল্য ঢাকা টু কলকাতা টোটাল ১৬০০-১৭০০ টাকা।

দ্বিতীয়, সোনালি ব্যাংক থেকে ২০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স ফীর রশিদ নিতে হবে।(ট্রাভেল ট্যাক্স বাংলাদেশ ইমিগ্রেসানে এন্ট্রির সময়ও দেওয়া যায় কিন্তু সেখানে বিশাল লম্বা লাইন ধরতে হবে)।

তৃতীয়, বাংলাদেশ বর্ডারে বাস অতিক্রমের পর আপনি নিজে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। ইমিগ্রেশনের জন্য কোন টাকা দিতে হয় না। আপনার লাগিস বাসের কুলিরাই ভারতীয় বাসে নিয়ে যাবে, এজন্য এক্সট্রা টাকা দিতে হবে না। সাবধান ইমিগ্রেশনের ভিতর অনেক দালাল থাকে সুতরাং ওদের কথার ফাপরে পরবেন না।

চতুর্থ, একি পদ্ধতিতে ভারত ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাজ গুলি সম্পন্ন করবেন। ইমিগ্রেশন ক্রস করতে কোন টাকা লাগে না।(সাবধান এখানে বাংলাদেশে থেকেও দালালের আনাগোনা বেশী সুতরাং ওদের কথার খপ্পরে পরবেন না)।

পঞ্চম, বর্ডারের আশেপাশে অনেক মানি চেইঞ্জার আছে ভুলেও এখানে ডলার ভাঙ্গাবেন না কারণ ওরা রেট কম দেয় অনেক সময় নকল ও ছিঁড়া নোট দেয় আর ভারতে ছিঁড়া নোট চালানো যায় না।

ষষ্ঠ, ভারতের ইমিগ্রেশনের পর বাস কতিৃপক্ষ আপনাকে নতুন ভারতীয় বাসে উঠিয়ে নিবে । এটা আপনাকে কলকাতা মারকুইস স্ট্রীট নামক স্থানে নামাবে।

সপ্তম, বাস থেকে নামার পর কয়েকটি মানি চেইঞ্জারে দাম যাচাই করে ডলার ভাঙ্গাবেন (আমার মতে আপনার সব ডলার কলকাতায় ভাঙ্গানো ভাল,কারণ দিল্লিতে ডলারের রেট কলকাতার চেয়ে অনেক কম দেয়)।

অষ্টম, কলকাতা থেকে সিম না কেনাই উত্তম কারণ দিল্লিতে এই সিম কার্ডটি রোমিং হয়ে যাবে তখন প্রতি মিনিট ১৪ রুপি করে কাটবে।

নবম, মারকুইস স্ট্রীটে দেখবেন অনেক হোটেল আছে। আজকের রাতটা এখানেই কাটিয়ে দিবেন। ভাড়া ৪৫০-৬০০ রুপি নিবে।

দশম, হোটেলে উঠার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে নিউ দিল্লির রেল টিকেটের জন্য সোজা শিয়ালদহ রেল স্টেশন অথবা হাওড়া রেল স্টেশনে যাবেন এই দুইটি স্টেশন মারকুইস স্ট্রীট থেকে কাছে। (বাসে করে স্টেশনে যেতে পারবেন ভাড়া মাত্র ৭ রুপি নিবে অন্যথায় ট্যাক্সিতে গেলে ২০০ রুপি নিবে,বাস অলেয়েন্টাল নামক স্থানে গিয়ে পাবেন, কাউকে জিজ্ঞেস করলেই অলেয়েন্টাল কোথায় দেখিয়ে দিবে)

এগার, রাজধানী এক্সপ্রেস, দুরন্ত এক্সপ্রেস, নিউ দিল্লি এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন কলকাতা থেকে নিউ দিল্লি যায়। আপনি এই তিনটির যেকোনো একটির টিকেট কাটবেন। দুরন্ত এক্সপ্রেস সকাল ১২ টা, রাজধানী এক্সপ্রেস বিকাল ৪.৩০ এবং নিউ দিল্লি এক্সপ্রেস সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে ছাড়ে। মনে রাখবেন ভারতীয় ট্রেন সেবা অনেক উন্নত এবং সঠিক সময়ে ট্রেনের নির্গমন এবং আগমন হয় সুতরাং সঠিক সময়ে স্টেশনে চলে যাবেন। প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় এসি যেই বাথ (আপনার সিট) খালি পাবেন ঐটার টিকেট কাটবেন। টিকেট কাটার সময় লোয়ার বাথটি কাটবেন যদি এভেইলএভল থাকে। টিকেট মূল্য ১৪০০ রুপি-২৩০০ রুপি। সাবধান দালাল, হোটেল বয় কারও মাধ্যমে টিকেট কাটবেন না ওরা অতিরিক্ত মূল্য আপনার কাছ থেকে নিবে।

বার, ট্রেনে খাবার নিয়ে উঠবেন না, ট্রেন কর্তৃপক্ষ সব বেলার খাবার বিনামূল্যে দিবে। আর খাবারের মানও ভাল। কলকাতা থেকে নিউ দিল্লি যেতে ১৫ ঘণ্টা লাগবে। নিউ দিল্লি স্টেশনে (জায়গাটার নাম পাহারগঞ্জ) নামার পর রিটার্ন যাওয়ার টিকেট কেটে নিবেন অথবা হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে তারপর কাটবেন। তবে রিটার্ন টিকেট তখনি কাটবেন যখন আপনি কনফার্ম থাকবেন যে অমুক তারিখে আপনার কাজ শেষ হয়ে যাবে।

তের, হোটেল ঠিক করার জন্য ইম্পেরিয়াল সিনেমা হলের (জায়গাটার নাম পাহারগঞ্জ) কাছে যাবেন, স্টেশন থেকে খুব কাছে, ইচ্ছা হলে হেঁটে যেতে পারবেন। ঐ জায়গায় অনেক হোটেল পাবেন ভাড়া নিবে প্রতি দিন ৪০০-৫৫০ রুপি। অনেকে ইয়থ হোস্টেলে (নিতি মার্গ) থাকার জন্য সাজেস্ট করে কিন্তু সেখানে আসে পাসে কোন খাবার হোটেল নেই পুরাই নির্জন এমনকি চা, সিগারেটের দোকান পর্যন্ত নেই, আর ইয়থ হস্টেলে খাবার ব্যবস্থা আছে কিন্তু দাম অনেক চওড়া। সেই তুলনায় পাহারগঞ্জে কম দামি খাবার হোটেলের অভাব নাই।

চোদ্দ, ভোডাফোনের একটি সিম কিনবেন দাম পরবে ১০০-২০০ রুপি। দোকানদারকে বলবেন বাংলাদেশে কম রেটে কল সেট করে দিতে। তখন প্রতি মিনিট ৪.৩০ রুপি কাটবে।

পনের, সবজি দিয়ে ভাত খেতে পারেন তাহলে খরচ অনেক কম পরবে প্রতি বেলা ৭০রুপি। সকালে রুটি সবজি নিবে ২৫ রুপি,আর প্রতি কাপ চায়ের দাম নিবে ৫ রুপি।

ষোল, সকাল বেলা দূতাবাসের উদ্দেশে পাহারগঞ্জ থেকে চানাকিপুরি ট্যাক্সি অটো(সিএনজি) দিয়ে যাবেন। ভাড়া নিবে ১০০ রুপি।

সতের, ইন্টার্ভিউ শেষে দিল্লির বিখ্যাত স্থান গুলিতে যেতে পারেন।

আঠারো, একই পদ্ধতি একই রুট একই স্থান একই খরচ ব্যাবহার করে দেশের সন্তান দেশে ফিরে আসুন।

 

মন্তব্য: কোথায় কত খরচ হতে পারে তার একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে, আপনার ট্যুর যদি শুধুমাত্র ভিসা ইন্টার্ভিউ কেন্দ্রিক হয় তাহলে ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে শেষ করতে পারবেন।

 

মন্তব্যসমূহ

Facebook