ঠিক করেছেন এস্তোনিয়ায় পড়াশুনা করবেন; একনজরে দেখে নিন

বাল্টিক সাগরের উত্তরে অবস্থিত এস্তোনিয়া। এস্তোনিয়া ভাষার সাথে ফিনল্যান্ডের ফিনিশ ভাষার মিল রয়েছে। পূর্বে এস্তোনিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে ছিল, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সঙ্গে এরা স্বাধীনতা ফিরে পায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এবং রাশিয়ান সাম্রাজ্যের পতনের পর, ১৯১৮ সালে এটি স্বাধীনতার প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতা লাভ করে। ১৯৪০ সালে হিটলার এবং স্ট্যালিনের মধ্যকার চুক্তির পর অনেকটা জোর পূর্বক এস্তোনিয়াক সোভিয়েত ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তৎকালীন সময় কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েতের এই অনৈতিক অন্তর্ভুক্ত করাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাবাহিনী এস্তোনিয়াকে দখল করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সদস্য দেশ গুলির ভিতরে এস্তোনিয়া খুব দ্রুত তাদের অর্থনৈতিক সাফল্যের চাকা গুঁড়িয়েছে। এস্তোনিয়ান সরকার দৃঢ়ভাবে মুক্ত বাজারের অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে, এবং সকল ক্ষেত্রেই যথেষ্ট কম ট্যাক্স আরোপ করেছে যাতে ব্যবসায়ীরা বড় আর্থিক বিনিয়োগ করতে পারে এর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ঋণের পরিমাণ যেন সীমার মধ্যে থাকে। এস্তোনিয়া টেকনোলজি খাতে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে, এর ফলে সেদিন আর বেশি দেরি নেই যখন সমগ্র বিশ্বে এস্তোনিয়াকে টেকনোলোজির জন্য লিডার হিসাবে বিবেচনা করবে।

এস্তোনিয়া উত্তর-পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। সরকারি ভাবে এর নাম এস্তোনিয়া প্রজাতন্ত্র। এর রাজধানী তাল্লিন। দেশটি টেকনোলোজি দিক থেকে যথেষ্ট এগিয়ে আছে। বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় স্কাইপ সফটওয়্যার এস্তোনিয়া প্রকৌশলী তৈরি করেছিল। এখানে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট এক্সেস সব জায়গায় পাওয়া যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এস্তোনিয়া সবচেয়ে গতিশীল দেশগুলোর মধ্যে একটি। এস্তোনিয়া কে একটি আধুনিক এবং তথ্য প্রযুক্তির বর হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এখানে রয়েছে ই-সমাজ, ইলেকট্রনিক আইডি কার্ড, ই-সরকার, ই-স্বাস্থ্য, ই-স্কুল, ই-পার্কিং ইত্যাদি। অধিকাংশ লোক ই-ব্যাংক ব্যবহার করে, এমনকি জাতীয় পর্যায়ের ভোট ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে এরা দেয়। এস্তোনিয়া দেশটি বাল্টিক সাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। এস্তোনিয়া বাল্টিক দেশগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম এবং সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত। লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া অপর দুইটি বাল্টিক রাষ্ট্র। এস্তোনিয়া পশ্চিমে বাল্টিক সাগরের অপর প্রান্তে সুইডেন অবস্থিত। দক্ষিণে রয়েছে লাটভিয়া, পূর্বে রাশিয়া, এবং উপসাগরের অপর তীরে ফিনল্যান্ড। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১.৩ মিলিয়ন।  ২০০৪ সালের ১লা মে এস্তোনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে এবং একই বছরের ২৯ শে মার্চ থেকে দেশটি ন্যাটো জোটভুক্ত। ২১ শে ডিসেম্বর ২০০৭ সালে সেনজেন এরিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়।  এস্তোনিয়া ভাষা একটি ফিনো-উগ্রেক ভাষা – ফিনিশের অনুরূপ।  এস্তোনিয়া হচ্ছে উচ্চতর শিক্ষার প্রতিষ্ঠান সমূহের একটি সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম, এই দেশ আকর্ষণীয় অধ্যয়ন গন্তব্য হিসাবে  দৃশ্যমান।  বর্তমান এস্তোনিয়া শিক্ষা ব্যবস্থা প্রাক-স্কুল শিক্ষা, মৌলিক শিক্ষা, সাধারণ মাধ্যমিক শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষা নিয়ে গঠিত। এস্তোনিয়া শিক্ষা ব্যবস্থায় ১ম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মৌলিক শিক্ষা সম্পন্ন হলে, এস্তোনিয়া শিক্ষার্থী   উচ্চমাধ্যমিক সাধারণ স্কুল ১০-১১ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এরপরের ধাপ টির নাম হচ্ছে এস্তোনিয়া উচ্চতর শিক্ষা। উচ্চতর শিক্ষা দুটি সেক্টরে বিভক্ত, উচ্চতর শিক্ষা (ডিপ্লোমা স্টাডিজ) এবং একাডেমিক উচ্চ শিক্ষা (স্নাতক, মাস্টার এবং ডক্টরেট স্টাডিজ) ।  এস্তোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে ইংরেজি ভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ১৩০ টি প্রোগ্রাম ইংরেজিতে পড়ানো হয়। এখানে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দের সংখ্যা প্রায় ৩৮০০ জনের মত। প্রতি  বছরে এই সংখ্যার কিছুটা পরিবর্তন হয়।

এস্তোনিয়ায় ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত তাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।  বিশ্ববিদ্যালয় গুলি হল: Tallinn University, University of Tartu, Tallinn university of technology, Estonian Academy of Arts, Estonian Academy of Music and Theatre, Estonian University of Life Sciences।

এছাড়া এস্তোনিয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত  চারটি একরেডেসান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে:  Estonian Business School, Estonian Entrepreneurship University of Applied Science,‌ Estonian Information Technology College, Euroacademy

এস্তোনিয়া উচ্চ শিক্ষা পদ্ধতি একাডেমিক এবং প্রাকটিকাল ভিত্তিক । শিক্ষাদান বিভিন্ন ফর্ম রয়েছে যেমন লেকচার, সেমিনার, গ্রুপ ভিত্তিক কাজ, ল্যাবরেটরি  ভিত্তিক কাজ এবং অধ্যয়ন । প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভাল ফলাফল নির্ভর করে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মক্ষমতার দূরদর্শিতা এবং কোর্স গুলিতে প্রাপ্ত নাম্বার এর উপর।

সর্বশেষে একটি কথা বলব, এস্তোনিয়ায় যারা আই টি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পেরেছেন, তাঁরা প্রায় সকলে স্ব স্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। টেকনোলজি নিয়ে পড়াশুনার অন্যতম সূতিকাগার হল এস্তোনিয়া।

এস্তোনিয়ান সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা, কোথায় কোন বিষয় টি রয়েছে, ভর্তি আবেদনের প্রক্রিয়া এবং ভর্তির শর্তাবলী জানতে স্টাডি প্রোগ্রাম সেক্সানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

Facebook